আসন্ন অর্থবছরের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক ব্যয় বৃদ্ধি ও খাদ্যের উচ্চ মজুদ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা প্রত্যক্ষ করের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি পরোক্ষ করের ওপর নির্ভরশীলতা কমানোর পরামর্শ দেন, যাতে দুই বছর ধরে চলমান উচ্চ মূল্যস্ফীতির মধ্যে সাধারণ মানুষ কিছুটা স্বস্তি পায়।
গতকাল রাজধানীতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম প্রাক-বাজেট আলোচনায় এসব কথা বলেন তারা। অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে আলোচনায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান রেহমান সোবহানসহ বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরী, এমএম আকাশ, জাইদি সাত্তার, মামুন রশীদ, ফাহমিদা খাতুন ও মুস্তাফিজুর রহমান অংশ নেন। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতে সংস্কারের বিষয়ে সুপারিশ করা হয়েছে, যাতে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার সেগুলো অব্যাহত রাখতে পারে।’
তিনি জানান, সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মান উন্নত করতে অনুপযুক্ত সুবিধাভোগীর তালিকা থেকে বাদ দিয়ে প্রকৃত যোগ্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়া প্রাথমিক শিক্ষা ও যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাজেট বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহারের জন্য পদক্ষেপ নেয়া হবে, যা কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হবে।
প্রাক-বাজেট আলোচনায় অর্থনীতিবিদ এমএম আকাশ ব্যাংকে ১ কোটি টাকা বা তার বেশি আমানত রাখা ধনী ব্যক্তিদের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ ও তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য রেশনিং ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব দেন।
এ সময় অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘অনিয়মকারী করদাতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার যে প্রস্তাব অর্থনীতিবিদরা করেছেন, এক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সমালোচনা আসতে পারে। অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী বাস্তবসম্মত বাজেট তৈরি করা হবে। কারণ বর্তমানে সরকারের অর্থসংস্থানের ঘাটতি রয়েছে।’
অর্থ উপদেষ্টা আসন্ন বাজেটের মোট আকার প্রকাশ করেননি। সংসদের অনুপস্থিতিতে আগামী ৫ জুন টেলিভিশনে ভাষণের মাধ্যমে তিনি বাজেট ঘোষণা করবেন।
৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে সংসদ বিলুপ্ত রয়েছে। ৮ আগস্ট শপথ গ্রহণের পর অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য এটিই হবে প্রথম বাজেট। পরবর্তী প্রাক-বাজেট বৈঠক ১৯ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে।